কোয়ান্টামের গুরুর কাছে করা এ সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন-উত্তর এখানে তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: আমরা জানি আপনি এক সময় সাংবাদিকতা করতেন। তা রপর এস্ট্রলজি (রাশি চর্চা) করেছেন। সেসব ছেড়ে আপনি কেন কোয়ান্টামে এলেন?
 
উত্তর: আমি কেন কোয়ান্টামে? হ্যাঁ। এটা একটা সুন্দর প্র্রস্তাব এবং এর উত্তর ও আমার কাছে সুস্পষ্ট। তবে উত্তর দেয়ার আগে একটু প্রেক্ষাপট বলা দরকার। প্রথমে বলি সাংবাদিকতায় কিভাবে এলাম? তারুণ্যে যখন মানুষের দুঃখ কষ্ট অভাব বঞ্চনা দেখেছি, মনে হয়েছিল এ দুঃখের কথা, কষ্টের কথা যদি লেখা যায় তাহলে কিছু একটা হবে। শুরু করলাম রিপোর্টারের কাজ।… কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বুঝলাম বাইরে থেকে যাই মনে হোক, একজন সাংবাদিকের স্বাধীনতা আসলে খুব সীমিত। তাকে লিখতে হয় পত্রিকার মালিকের  ইচ্ছানুসারে, সত্য জানাতে চাইলেও জানানো যায় না। সিন্ধান্ত নিলাম সাংবাদিকতা ছেড়ে দেবো।…এস্ট্রলজির প্রতি আগ্রহ ছিলো। এই শখকেই পেশা হিসেবে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।কারণ মনে হলো, একজন মানুষকে যদি ভালো পরামর্শ দেয়া যায়। একটা গাইডলাইন দেয়া যায় তাহলে তার দুঃখটাকে তিনি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বা তাকে যদি সতর্ক করে দেয়া যায়, তাহলে দুঃখ থেকে তিনি হয়তো দূরে থাকতে পারবেন।… তবে একজন এস্ট্রলজার হিসেবে আমার সীমাবদ্ধতা ছিলো।…দুঃখ বলতে পারছি, কিন্তু দুঃখের কোন সমাধান দিতে পারছিনা। প্রতিকার করতে পারছিনা। এই অতৃপ্তি ছিলো, দুঃখবোধ ছিলো। আর যেহেতু ধ্যান মেডিটেশনের সাথে তারুন্যেই পরিচয় ছিলো, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, …মেডিটেশনের মাধ্যমে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে তার ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে বিপনড়ব অবস্থা থেকে তাকে মুক্ত করা সম্ভব। বুঝলাম তার ভেতরের শক্তির জাগরণ ঘটিয়েই তার দুঃখকে আনন্দে, রোগকে সুস্থতায়, ব্যার্থতাকে সাফল্যে, আর অভাবকে প্রাচুর্যে রূপান্তরিত করা যাবে। যখন বুঝলাম তখন আর সময় নেইনি। যেভাবে সাংবাদিকতা ছেড়ে ছিলাম,তেমনি এস্ট্রলজি ছেড়ে কোয়ান্টামে নিজেকে সঁপে দিলাম। …আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কাটাচ্ছি এখন।” (হাজারো প্রশ্নের জবাব,মহাজাতক ১/৪২৯-৩১)
বোঝাগেলো মানুষকে দুঃখ মুক্ত করতে প্রথমে সাংবাদিকতা তার পর জ্যোতিষী অবশেষে মেডিটেশনের পথ অবলম্বন করে কোয়ান্টাম মেথড উদ্ভাবন করা হয়। এই একই লক্ষ্য উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য গৌতম বুদ্ধ বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তন করেছিলেন।অথচ মানব মুক্তির পথ মানব বুদ্ধি বলে উদ্ভাবন সম্ভব নয়। মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে এত্তেবায়ে সুনড়বাত তথা মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মাদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদর্শের অনুসরণ। মনে প্রাণে নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ করা হলে মুক্তির জন্যে অন্য কোন মেথড বা জীবনদৃষ্টি উদ্ভাবন করার প্রয়োজন হবে না । পবিত্র করআনে ইরশাদ হচ্ছে:“যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। তাদের জন্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।”(সুরা আল-আহযাব-২১)
বৌদ্ধ ধর্মে আল্লাহ তাআলা বা শেষ দিবসের কোনো ধারণা নেই। তারা নাস্তিক এবং পরকালে অবিশ্বাসী। তাই তারা মুক্তি পেতে নবীজী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদর্শ ভিনড়ব বুদ্ধের শিক্ষা অনুসরণ করে। কিন্তু যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে তারা সফলতা ও মুক্তির পথ হিসেবে নবীজীর আদর্শ অনুসরণ করবে না কি কোয়ান্টামের? চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে। আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত থেকে সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। ইরশাদ হচ্ছে “মুমিনদের বক্তব্য কেবল একথাই যখন তাদের মধ্যে ফায়সালা করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে তাদেরকে আহবান করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা শুনলাম ও আদেশ মান্য করলাম। তারাই সফলকাম।”
(সূরা আননূর-৫১)
আলোচ্য আয়াতটি বিশেষ ঘটনা প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে। তাবারী প্রমুখ এই ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, বিশর নামক জনৈক মুনাফিক ও এক ইহুদীর মধ্যে জমি সংক্রান্ত কলহ বিবাদ ছিল। ইহুদী তাকে বলল, চল তোমাদেরই রাসূল দ্বারা এর মিমাংসা করিয়ে নেই। মুনাফিক বিশর ছিল অন্যায়ের উপর। সে জানত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর এজলাসে মুকাদ্দামা গেলে তিনি ন্যায়বিচার করবেন এবং সে হেরে যাবে। কাজেই সে অস্বীকার করল এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পরিবর্তে কা’আব ইবনে আশরাফ ইহুদীর কাছে মুকাদ্দামা নিয়ে যেতে বলল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আলোচ্য আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়। (তাফসীরে মা’আরিফুল কুরআন) অতএব, নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদর্শ বাদে অন্য কোনো মেথড বা জীবন দৃষ্টির মাঝে সফলতা ও মুক্তির পথ খোঁজা মুমিনের কাজ হতে পারে না। মুমিন তো সর্বাবস্থায় তার সকল সমস্যার সমাধান নবীজী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনীত দ্বীনে ইসলামের মাঝে সন্ধান করবে।

 

Advertisements
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s